পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার প্রভাবে বার্ষিক ১০ কোটি টন তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) উৎপাদনের লক্ষ্য অর্জনের পরিকল্পনা কয়েক বছর পিছিয়ে দিয়েছে রাশিয়া। সম্প্রতি দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা জানান রাশিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী আলেকজান্ডার নোভাক। খবর রয়টার্স।
তিনি বলেন, রাশিয়ার লক্ষ্য ছিল বার্ষিক ১০ কোটি টন এলএনজি উৎপাদনের লক্ষ্যে পৌঁছানো।
তবে নিষেধাজ্ঞাজনিত সীমাবদ্ধতার কারণে এ লক্ষ্য এখন কয়েক বছর পিছিয়ে যাচ্ছে। তবে এ লক্ষ্য পূরণে ঠিক কত বছর বিলম্ব হতে পারে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।
ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে আরোপিত নিষেধাজ্ঞার কারণে রাশিয়ার জ্বালানি খাতের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। বিশেষ করে নতুন আর্কটিক এলএনজি-২ প্রকল্প নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়ায় দেশটির বৈশ্বিক এলএনজি বাজারে অংশীদারত্ব বাড়ানোর পরিকল্পনা বাধাগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে বৈশ্বিক এলএনজি বাজারে রাশিয়ার হিস্যা প্রায় ৮ শতাংশ। ২০৩০-৩৫ সালের মধ্যে তা বাড়িয়ে ২০ শতাংশে নেয়ার লক্ষ্য ছিল মস্কোর।
রাশিয়ার সরকার সম্প্রতি হালনাগাদ করা এক জ্বালানি কৌশলপত্রে জানিয়েছে, ২০৩০ সালের মধ্যে রাশিয়ার এলএনজি উৎপাদন নয় কোটি থেকে ১০ কোটি ৫০ লাখ টনের মধ্যে এবং ২০৩৬ সালের মধ্যে ১১ কোটি থেকে ১৩ কোটি টনে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
নোভাক আরো জানান, চলতি বছর রাশিয়ার ৩ কোটি ৫২ লাখ টন এলএনজি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি। তবে এ সময় দেশটিতে জ্বালানি পণ্যটির উৎপাদন ৫ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ৩ কোটি ৪৭ লাখ টনে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে রুশ এলএনজি আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরিকল্পনা করছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপে এলএনজি বিক্রি বাড়াচ্ছে। পাশাপাশি এশিয়ার বাজারে কাতার জ্বালানি পণ্যটি বিক্রিতে আধিপত্য বিস্তার করে রেখেছে। ফলে প্রতিযোগিতাও তীব্র হচ্ছে।
রাশিয়ার এলএনজি উৎপাদন বাড়াতে প্রধান বাধাগুলোর একটি হয়ে উঠেছে আর্কটিক এলএনজি-২ প্রকল্পের বিলম্ব। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে উৎপাদন শুরু হলেও প্রকল্পটি চলতি বছরের আগস্টে প্রথমবারের মতো চীনের ক্রেতাদের কাছে একটি কার্গো সরবরাহ করতে সক্ষম হয়েছে। এছাড়া দেশটির সবচেয়ে বড় এলএনজি প্রকল্প হিসেবে পরিকল্পিত মুরমানস্ক প্রকল্পও বিলম্বের মুখে পড়েছে। প্রকল্পটি পুরোপুরি চালু হলে বার্ষিক ২ কোটি ৪ লাখ টন এলএনজি উৎপাদনের কথা রয়েছে।